
অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত ওজন ও কায়িক শ্রমের অভাবে বাড়ছে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি। সময়মতো জীবনযাপনে পরিবর্তন না আনলে যকৃতে জমে থাকা চর্বি থেকে প্রদাহ এবং পরবর্তী সময়ে সিরোসিসের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে ওজন কমানো, নিয়মিত ব্যায়াম এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যতালিকায় কিছু খাবার রাখলে যকৃতের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা মিলতে পারে।
সবুজ শাকসবজি: সবুজ পাতাওয়ালা শাকসবজিতে থাকা পলিফেনল ও নাইট্রেট যকৃতে চর্বি জমা কমাতে সহায়ক হতে পারে। শাক, লেটুসসহ বিভিন্ন সবুজ সবজি খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। সালাদ হিসেবে কাঁচা বা উপযুক্তভাবে রান্না করে এসব সবজি খাওয়া যায়।
ডাল ও বীজজাতীয় খাবার: ডাল, ছোলা, মটরশুঁটিতে প্রচুর আঁশ থাকে, যা পরিপাকতন্ত্রের জন্য উপকারী। এসব খাবার রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি সয়াপ্রোটিন, টফু ও সূর্যমুখীর বীজও খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
সামুদ্রিক মাছ: ইলিশ, টুনা, স্যামন ও সার্ডিনের মতো মাছ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের উৎস। এগুলো রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে এবং যকৃতের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। সপ্তাহে কয়েক দিন মাছ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ওটস ও জটিল শর্করা: পরিশোধিত শর্করার পরিবর্তে ওটস, লাল আটার রুটি ও যবের মতো আঁশসমৃদ্ধ খাবার বেছে নেওয়া যেতে পারে। এগুলো রক্তে শর্করা ও ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
আখরোট: আখরোটে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, আর্জিনিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে। পরিমিত পরিমাণে আখরোট খাওয়া স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।
বিট: বিটে আঁশ, নাইট্রেট ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। এসব উপাদান শরীরের স্বাভাবিক বিপাকীয় কার্যক্রম ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখতে পারে।
লেবু ও ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল: আমলকি, পেয়ারা ও লেবুর মতো ফলে ভিটামিন সি থাকে। এসব ফল সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে খাওয়া যেতে পারে।
মসলা: হলুদে থাকা কারকিউমিন এবং রসুনের বিভিন্ন উপাদান নিয়ে যকৃতের প্রদাহ ও বিপাকীয় স্বাস্থ্যের ওপর গবেষণা রয়েছে। তবে এগুলোকে ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে শুধু নির্দিষ্ট কিছু খাবার খেলেই যথেষ্ট নয়। অতিরিক্ত ওজন কমানো, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, সুষম খাবার গ্রহণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা জরুরি। যাঁদের ফ্যাটি লিভার শনাক্ত হয়েছে, তাঁদের ব্যক্তিগত শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস ও চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণ করা উচিত।